Skip to playerSkip to main content
  • 5 years ago
শনিবার। দুপুর দেড়টা। চকবাজার চুড়িহাট্টা বড় মসজিদের প্রধান ফটকের ঠিক বিপরীত দিকে আগুনে জ্বলসে যাওয়া একটি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। আনুমানিক ৮ থেকে ৯ বছরের ছেলের হাতে ক্র্যাচটি দিয়ে দুই তরুণের কাঁধে ভর করে একটু দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন, ‘আমার সব শেষ।’

কান্না শুনে কৌতূহলী অনেকেই দৌড়ে এসে পরিচয় জানতে চাইলেন। তার পাশে দাঁড়ানো একজন বললেন, ‘উনি আবদুল মান্নান। এই মুদি দোকানটা তার। নিজ নামেই দোকানের নাম রেখেছিলেন মান্নান স্টোর। গত শনিবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার মুদি দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকানে না থাকায় প্রাণে বেঁচেছেন। তবে এ ঘটনায় তার আপন এক ভাগ্নে প্রাণ হারিয়েছেন।’

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মান্নান বলেন, ‘গত ১৮ বছর যাবত এ মহল্লায় মুদি দোকানটি চালাচ্ছেন। অনেক কষ্ট করে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ব্যবসা জমিয়েছেন। তার দোকানে সুঁই সুতা থেকে শুরু করে চাল, ডাল, মসলাসহ নিত্যব্যবহার্য় সব পণ্যসামগ্রী পাওয়া যেত। এ কারণে তার দোকানে এসে কেউ কোনো মালামাল না পেয়ে ফেরত যেত না।’

নগদ টাকাসহ ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার মালামাল ছিল দোকানে। দুই ছেলে ও স্ত্রীসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভালোভাবে দিন কাটছিল তার। ১৮ বছর পরিশ্রম করে যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন আগুনে তা ভস্মীভূত হয়ে গেছে বলে ডুকরে কেঁদে উঠলেন।

তবে সব হারালেও আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন আবদুল মান্নান। এ মুহূর্তে তার একার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা কিংবা সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

Category

🗞
News

Recommended