শেষ ক'য়েকদিনে বৃষ্টি কম থাকায় এই মুহূর্তে গজলডোবার বিস্তরণ অংশে তিস্তায় তুলনামূলক কিছুটা জল কম। তাই মাঝিরা প্রায়শই পৌঁছে যাচ্ছেন নদীর মাঝামাঝি এলাকায় ৷ মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ দেখতে পেলেন জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে এক ছোট্ট হস্তিশাবক ৷ দেখামাত্রই উদ্ধার কাজে নামলেন তাঁরা। তিস্তা ব্যারেজ এলাকা থেকে পাঞ্জাব বাঁধ পর্যন্ত প্রায় 4 কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলে উদ্ধারকার্য। স্রোত উপেক্ষা করে নিজেদের ডিঙিতে তুলে নিলেন 15 দিনের পুচকে হাতির শিশুকে ৷ কিন্তু হস্তিশাবক ভয়ে শুরু করেছে লাফালাফি ৷ ডিঙিতে থাকা মাঝিরা নৌকার টালে ভাবছেন এই বুঝি নৌকো গেল উল্টে কিন্তু শেষমেশ সুরক্ষিতভাবেই তারা তিস্তা স্রোত পেরিয়ে হস্তিশাবককে নিয়ে পৌঁছলেন ডাঙায় ৷ এদিকে নিজের সন্তানের খোঁজে চড়ে এসে পৌঁছেছে পুচকে হাতির মাও। খবর যায় বন দফতরের কাছে। কাঠামবাড়ি রেঞ্জের বন দফতরের কর্মীরা এলাকায় পৌঁছেই সাধারণ মানুষকে এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে দেন। ছোট্ট হাতি তখন চড়ের উপরে বালি-কাদার খেলায় মেতেছে ৷ মা হাতিও যেন তাকে বাগে আনতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর মায়ের সঙ্গে জঙ্গলের দিকে রওনা দেয় সন্তান। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণ রক্ষার এই ঘটনা যেন উত্তরের মানুষ বন্যপ্রাণ সংঘাতের এক অনন্য বিপরীত চিত্র।
Comments