'বাজল তোমার আলোর বেণু'... আজ দেবীপক্ষের সূচনা ৷ মায়ের মর্ত্যে আগমনের আর হাতে গোনা ক'য়েকদিন বাকি ৷ বাঙালির কাছে দুর্গাপুজোর সূচনালগ্ন হলেও, এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও আবেগের এক অনন্য মেলবন্ধন। এদিন আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষে পূর্বপুরুষদের তর্পণ করার প্রথা প্রচলিত ৷ পাশাপাশি আশ্বিন মাসের অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কাল পিতৃপক্ষ নামেও পরিচিত। প্রতিবেদন ধীমান হালদারের ৷শনির সূর্যোদয়ের পূর্বেই ভোর থেকে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনায় সর্বত্র শুরু হয়েছে তর্পণ। মহালয়ার এই পুণ্য তিথিতে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে চলে জল ও অন্ন দান ৷ 'তর্পণ' শব্দের অর্থ তৃপ্ত করা। জল, তিল এবং মন্ত্রের মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই এই আচারের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বাস করা হয়, জীবিত প্রজন্মের এই শ্রদ্ধার্ঘ্য পূর্বপুরুষদের স্মৃতিকে আরও গভীরভাবে স্মরণ করার সুযোগ করে দেয়। 'গোত্রে অস্মতপিতা দেব শর্মা বসুরূপৎ তৃপ্যতমিদং তিলোদকম গঙ্গা জলং'- এই মন্ত্রোচ্চারণে পুরুষ থেকে মহিলারা সকলে তর্পণে সামিল হয়েছেন ৷ মন্ত্রোচ্চারণ করে কুশ, তিল মেশানো জল, চাল, দুধ, সাদা ফুল একত্রে নিবেদন করা হয় পূর্বপুরুষের উদ্দেশে। মহালয়ার পিতৃতর্পণ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি অতীতের সঙ্গে বর্তমানের এক আত্মিক সংযোগ। নিজের শিকড়কে স্মরণ করা, পারিবারিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো এবং প্রিয়জনদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক চিরন্তন উপলক্ষ।গঙ্গা তো বটেই, অন্য নদীর ঘাটেও সকাল থেকে এই একই ছবি ৷ শনির ভোর থেকে কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি রাজ্যের একাধিক ঘাটে তর্পণের ভিড় ৷ পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না-ঘটে তাই প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ৷ পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাটে পুলিশকর্মীদের মোতায়েন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জলপথে নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, গঙ্গায় স্নান ও তর্পণ করার সময় যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। পুরুষ পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে মহিলা পুলিশের দুর্গা বাহিনী। এছাড়াও গঙ্গায় নৌকা ও বোটের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে হুগলি রিভার ট্রাফিক গার্ড ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের দল ৷ প্রতিবেদন ও ক্যামেরায় ধীমান হালদার ৷
Comments